বাংলা ছড়া ও কবিতা শিশুদের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ছোটবেলা থেকেই শিশুরা ছড়া শুনতে ও বলতে খুব ভালোবাসে। ছন্দ, তাল, আর মজার শব্দের মাধ্যমে এই ছড়াগুলো শিশুদের মনকে আনন্দে ভরিয়ে তোলে। শুধু বিনোদনই নয়, ছড়া শিশুদের ভাষা শেখা, উচ্চারণ উন্নত করা এবং কল্পনাশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে।
বাংলা ছড়ার মধ্যে সহজ শব্দ, মজার গল্প এবং শিক্ষামূলক বিষয় থাকে। অনেক ছড়ায় নৈতিক শিক্ষা, প্রকৃতির বর্ণনা, প্রাণীদের গল্প, এবং দৈনন্দিন জীবনের ছোট ছোট বিষয় তুলে ধরা হয়। এর ফলে শিশুরা খেলতে খেলতে অনেক কিছু শিখতে পারে।
শিশুদের জন্য লেখা ছড়াগুলো সাধারণত ছোট, সহজে মনে রাখা যায় এবং বারবার বলতে ভালো লাগে। এগুলো স্কুলে, বাড়িতে বা খেলাধুলার সময় খুব জনপ্রিয়। বাবা-মা এবং শিক্ষকরা এই ছড়ার মাধ্যমে শিশুদের শেখাতে পারেন নতুন শব্দ, সংখ্যা, রং এবং আচরণ।
আজকের ডিজিটাল যুগেও বাংলা ছড়ার গুরুত্ব কমে যায়নি। এখন অনলাইনে অনেক সুন্দর ছড়া পাওয়া যায়, যা শিশুদের শেখার প্রক্রিয়াকে আরও সহজ করে তোলে।
সব গাছ ছাড়িয়ে
উঁকি মারে আকাশে।
মনে সাধ, কালো মেঘ ফুঁড়ে যায়,
একেবারে উড়ে যায়
কোথা পাবে পাখা সে।
তাই তো সে ঠিক তার মাথাতে
গোল গোল পাতাতে
ইচ্ছাটি মেলে তার
মনে মনে ভাবে বুঝি ডানা এই,
উড়ে যেতে মানা নেই
বাসাখানি ফেলে তার।
সারাদিন ঝরঝর থত্থর
কাঁপে পাতা পত্তর
ওড়ে যেন ভাবে ও,
মনে মনে আকাশেতে বেড়িয়ে
তারাদের এড়িয়ে
যেন কোথা যাবে ও।
তারপরে হাওয়া যেই নেমে যায়
পাতা কাঁপা থেমে যায়,
ফেরে তার মনটি
যেই ভাবে মা যে হয় মাটি তার,
ভালো লাগে আরবার
পৃথিবীর কোণটি।
কোথা যাস্ বাপুরে?
আয় বাবা দেখে যা,
দুটো সাপ রেখে যা-
যে সাপের চোখ্ নেই,
শিং নেই নোখ্ নেই,
ছোটে না কি হাঁটে না,
কাউকে যে কাটে না,
করে নাকো ফোঁস্ফাঁস্,
মারে নাকো ঢুঁশঢাঁশ,
নেই কোন উৎপাত,
খায় শুধু দুধ ভাত-
সেই সাপ জ্যান্ত
গোটা দুই আনত?
তেড়ে মেরে ডাণ্ডা
ক’রে দেই ঠাণ্ডা।
সবাই হাততালি দিচ্ছে।
সবাই চেঁচিয়ে বলছে; শাবাশ, শাবাশ!
কারও মনে সংস্কার, কারও ভয়;
কেউ-বা নিজের বুদ্ধি অন্য মানুষের কাছে বন্ধক দিয়েছে;
কেউ-বা পরান্নভোজী, কেউ
কৃপাপ্রার্থী, উমেদার, প্রবঞ্চক;
কেউ ভাবছে, রাজবস্ত্র সত্যিই অতীব সূক্ষ্ম, চোখে
পড়ছে না যদিও, তবু আছে,
অন্তত থাকাটা কিছু অসম্ভব নয়।
গল্পটা সবাই জানে।
কিন্তু সেই গল্পের ভিতরে
শুধুই প্রশস্তিবাক্য-উচ্চারক কিছু
আপাদমস্তক ভিতু, ফন্দিবাজ অথবা নির্বোধ
স্তাবক ছিল না।
একটি শিশুও ছিল।
সত্যবাদী, সরল, সাহসী একটি শিশু।
নেমেছে গল্পের রাজা বাস্তবের প্রকাশ্য রাস্তায়।
আবার হাততালি উঠছে মুহুর্মুহু;
জমে উঠছে
স্তাবকবৃন্দের ভিড়।
কিন্তু সেই শিশুটিকে আমি
ভিড়ের ভিতরে আজ কোথাও দেখছি না।
শিশুটি কোথায় গেল? কেউ কি কোথাও তাকে কোনো
পাহাড়ের গোপন গুহায়
লুকিয়ে রেখেছে?
নাকি সে পাথর-ঘাস-মাটি নিয়ে খেলতে খেলতে
ঘুমিয়ে পড়েছে
কোনো দূর
নির্জন নদীর ধারে, কিংবা কোনো প্রান্তরের গাছের ছায়ায়?
যাও, তাকে যেমন করেই হোক
খুঁজে আনো।
সে এসে একবার এই উলঙ্গ রাজার সামনে
নির্ভয়ে দাঁড়াক।
সে এসে একবার এই হাততালির ঊর্ধ্বে গলা তুলে
জিজ্ঞাসা করুক:
রাজা, তোর কাপড় কোথায়?
বাদল গেছে টুটি,
আজ আমাদের ছুটি, ও ভাই,
আজ আমাদের ছুটি।।
কী করি আজ ভেবে না পাই,
পথ হারিয়ে কোন্ বনে যাই,
কোন্ মাঠে যে ছুটে বেড়াই,
সকল ছেলে জুটি।।
কেয়াপাতায় নৌকো গড়ে’
সাজিয়ে দেব ফুলে,
তালদিঘিতে ভাসিয়ে দেবো,
চলবে দুলে দুলে।
রাখাল ছেলের সঙ্গে ধেনু
চরাব আজ বাজিয়ে বেণু,
মাখব গায়ে ফুলের রেণু
চাঁপার বনে লুটি।
আজ আমাদের ছুটি, ও ভাই,
আজ আমাদের ছুটি।।
লেগেছে হাওয়ার ‘পরে,-
সকাল বেলায় ঘাসের আগায়
শিশিরের রেখা ধরে।
আমলকী-বন কাঁপে — যেন তার
বুক করে দুরু দুরু –
পেয়েছে খবর পাতা-খসানোর
সময় হয়েছে শুরু।
শিউলির ডালে কুঁড়ি ভ’রে এল,
টগর ফুটিল মেলা,
মালতীলতায় খোঁজ নিয়ে যায়
মৌমাছি দুই বেলা।
গগনে গগনে বরষন-শেষে
মেঘেরা পেয়েছে ছাড়া –
বাতাসে বাতাসে ফেরে ভেসে ভেসে,
নাই কোনো কাজে তাড়া।
দিঘি-ভরা জল করে ঢল্ ঢল্,
নানা ফুল ধারে ধারে,
কচি ধানগাছে খেত ভ’রে আছে –
হাওয়া দোলা দেয় তারে।
যে দিকে তাকাই সোনার আলোয়
দেখি যে ছুটির ছবি –
পূজার ফুলের বনে ওঠে ওই
পূজার দিনের রবি।
থাকি সেথা সবে মিলে নাহি কেহ পর।
পাড়ার সকল ছেলে মোরা ভাই ভাই
একসাথে খেলি আর পাঠশালে যাই।
হিংসা ও মারামারি কভু নাহি করি,
পিতা-মাতা গুরুজনে সদা মোরা ডরি।
আমাদের ছোটো গ্রাম মায়ের সমান,
আলো দিয়ে বায়ু দিয়ে বাঁচাইছে প্রাণ।
মাঠভরা ধান আর জলভরা দিঘি,
চাঁদের কিরণ লেগে করে ঝিকিমিকি।
আমগাছ জামগাছ বাঁশঝাড় যেন,
মিলে মিশে আছে ওরা আত্মীয় হেন।
সকালে সোনার রবি পুব দিকে ওঠে
পাখি ডাকে, বায়ু বয়, নানা ফুল ফোটে।
মাঠে মাঠে বেলা কাটে সকাল হতে সন্ধে॥
রৌদ্র ওঠে, বৃষ্টি পড়ে,
বাঁশের বনে পাতা নড়ে,
বাতাস ওঠে ভরে ভরে
চষা মাটির গন্ধে॥
সবুজ প্রাণের গানের লেখা
রেখায় রেখায় দেয় রে দেখা,
মাতে রে কোন্ তরুণ কবি
নৃত্যদোদুল ছন্দে।
ধানের শিষে পুলক ছোটে–
সকল ধরা হেসে ওঠে
অঘ্রানেরই সোনার রোদে,
পূর্ণিমারই চন্দ্রে॥
লুচি খেতেন এক ঝুড়ি, ধামা ধামা মুড়ি।
কালকে হঠাৎ দেখা হল মহেশের ঐ রথে,
ভুঁড়ি কেমন কমে গেছে হেঁটে হেঁটে পথে।
দশটা করে ঔষুধ খান সুগারের কারণ,
খাওয়া দাওয়া কমে গেছে, আলু ভাজা বারণ।
ভালো নেই নুটু বাবু, শুধু চিন্তা করে—
ছেলেপেলে রেখে যদি স্ট্রোক করে মরে।
গুড়-মুড়ি খাও? দুধ-ভাত খাও? বাতাবি-নেবু? লাউ?
বেড়াল-বাচ্চা? কুকুর-ছানা? তাও-
ডাইনি তুমি হোঁৎকা পেটুক,
খাও একা পাও যেথায় যেটুক!
বাতাবি-নেবু সকলগুলো
একলা খেলে ডুবিয়ে নুলো!
তবে যে ভারি ল্যাজ উঁচিয়ে পুটুস পাটুস চাও?
ছোঁচা তুমি! তোমার সঙ্গে আড়ি আমার! যাও!
কাঠবেড়ালি! বাঁদরীমুখী! মারবো ছুঁড়ে কিল?
দেখবি তবে? রাঙাদাকে ডাকবো? দেবে ঢিল!
পেয়ারা দেবে? যা তুই ওঁচা!
তাই তো তোর নাকটি বোঁচা!
হুতমো-চোখী! গাপুস গুপুস
একলাই খাও হাপুস হুপুস!
পেটে তোমার পিলে হবে! কুড়ি-কুষ্টি মুখে!
হেই ভগবান! একটা পোকা যাস পেটে ওর ঢুকে!
ইস! খেয়ো না মস্তপানা ঐ সে পাকাটাও!
আমিও খুবই পেয়ারা খাই যে! একটি আমায় দাও!
কাঠবেড়ালি! তুমি আমার ছোড়দি’ হবে? বৌদি হবে? হুঁ!
রাঙা দিদি? তবে একটা পেয়ারা দাও না! উঃ!
এ রাম! তুমি ন্যাংটা পুঁটো?
ফ্রকটা নেবে? জামা দুটো?
আর খেয়ো না পেয়ার তবে,
বাতাবি-নেবুও ছাড়তে হবে!
দাঁত দেখিয়ে দিচ্ছ ছুট? অ’মা দেখে যাও!-
কাঠবেড়ালি! তুমি মর! তুমি কচু খাও!!
বৈশাখ মাসে তার হাঁটু জল থাকে।
পার হয়ে যায় গোরু, পার হয় গাড়ি,
দুই ধার উঁচু তার, ঢালু তার পাড়ি।
চিক্ চিক্ করে বালি, কোথা নাই কাদা,
একধারে কাশবন ফুলে ফুলে সাদা।
কিচিমিচি করে সেথা শালিকের ঝাঁক,
রাতে ওঠে থেকে থেকে শেয়ালের হাঁক।
আর-পারে আমবন তালবন চলে,
গাঁয়ের বামুন পাড়া তারি ছায়াতলে।
তীরে তীরে ছেলে মেয়ে নাইবার কালে
গামছায় জল ভরি গায়ে তারা ঢালে।
সকালে বিকালে কভু নাওয়া হলে পরে
আঁচল ছাঁকিয়া তারা ছোটো মাছ ধরে।
বালি দিয়ে মাজে থালা, ঘটিগুলি মাজে,
বধূরা কাপড় কেচে যায় গৃহকাজে।
আষাঢ়ে বাদল নামে, নদী ভর ভর
মাতিয়া ছুটিয়া চলে ধারা খরতর।
মহাবেগে কলকল কোলাহল ওঠে,
ঘোলা জলে পাকগুলি ঘুরে ঘুরে ছোটে।
দুই কূলে বনে বনে পড়ে যায় সাড়া,
বরষার উৎসব জেগে ওঠে পাড়া।।
কোথা যাও নাচি নাচি
দাঁড়াও না একবার ভাই।
ওই ফুল ফোটে বনে,
যাই মধু আহরণে
দাঁড়াবার সময় তো নাই।
ছোট পাখি, ছোট পাখি,
কিচি-মিচি ডাকি ডাকি
কোথা যাও বলে যাও শুনি?
এখন না ক’ব কথা,
আনিয়াছি তৃণলতা,
আপনার বাসা আগে বুনি।
পিপীলিকা, পিপীলিকা,
দল-বল ছাড়ি একা
কোথা যাও, যাও ভাই বলি।
শীতের সঞ্চয় চাই,
খাদ্য খুঁজিতেছি তাই
ছয় পায়ে পিল পিল চলি।
ওষ্ঠে রাঙা হাসির রেখা, জীবন জাগে স্পন্দনে।
লক্ষ আশা অন্তরে
ঘুমিয়ে আছে মন্তরে,
ঘুমিয়ে আছে বুকের ভাষা পাঁপড়ি-পাতার বন্ধনে।
সকল কাঁটা ধন্য করে ফুটবো মোরাও ফুটবো গো,
অরুণ রবির সোনার আলো দু’হাত দিয়ে লুটবো গো।
নিত্য নবীন গৌরবে
ছড়িয়ে দিব সৌরভে,
আকাশ পানে তুলবো মাথা সকল বাঁধন টুটবো গো।
সাগর জলে পাল তুলে দে’ কেউবা হব নিরুদ্দেশ;
কলম্বসের মতই বা কেউ পৌঁছে যাব নূতন দেশ।
জাগবে সাড়া বিশ্বময়
এ পাক-তুমি নিঃস্ব নয়,
জ্ঞান-গরিমা, শক্তি-সাহল আজও এদের হয়নি শেষ।
কেউবা হব সেনানায়ক, গড়বো নূতন সৈন্যদল –
সত্য-ঘ্যায়ের অস্ত্র নেব, নাই বা থাকুক অন্য বল;
দেশের ভালো খুঁজবো গো
ব্যথীর ব্যথা বুঝবো গো,
ধন্য হবে দেশের মাটি, ধন্য হবে অন্ন-জল।
জ্ঞান-গরিমা শিখবো বলে কেউ বা যাব জার্মানি
সবার আগেই চলবো মোরা, আর কি কভু হার মানি?
শিল্পকলা শিখবো কেউ
গ্রন্থমালা লিখবো কেউ
কেউ বা হর ব্যবসাজীবী, কেউবা টাটা, কার্নানি।
ভবিষ্যতের লক্ষ আশা মোদের মাঝে সম্ভরে,
ঘুমিয়ে আছে শিশুর পিতা সব শিশুরই অন্তরে।
নূতন আলোর আমরা সূত
নূতন বাণীর অগ্রদূত,
কতই কি যে করবো মোরা নাইকো তাহার অন্তরে।
কাঁচা ইট পাকা হয় পোড়ালে তা আগুনে।
রোদে জলে টিকে রং, পাকা কই তাহারে
ফলারটি পাকা হয় লুচি দই আহারে।
হাত পাকে লিখে লিখে চুল পাকে বয়সে,
জ্যাঠামিতে পাকা ছেলে বেশি কথা কয় সে।
লোকে কয়, কাঁঠাল সে পাকে নাকি কিলিয়ে!
বুদ্ধি পাকিয়ে তোলে লেখাপড়া গিলিয়ে।
কান পাকে, ফোঁড়া পাকে, পেকে করে টনটন
কথা যার পাকা নয়, কাজে তার ঠনঠন।
রাঁধুনি বসিয়ে পাকে পাক দেয় হাঁড়িতে,
সজোরে পাকালে চোখ ছেলে কাঁদে বাড়িতে।
পাকায়ে পাকায়ে দড়ি টান হয়ে থাকে সে,
দু হাতে পাকালে গোঁফ তবু নাহি পাকে সে।
কী হবে আর আমি যদি মস্ত ধনী হই।
এই তো মোদের বাসার ধারে রায় বাবুদের বাড়ী,
উচ্চ তাহার চূড়ো যেন ফেলবে আকাশ ফাড়ি;
আড়ালে তা’র মোদের ঘরে বাতাস নাহি আসে,
মোদের দোরে রবির আলো কখন নাহি হাসে।
চারধারাতে পাঁচিল বেঁধে সুখে আছেন তাঁরা,
শুনতে না পায় মোদের মতো দুখীর বেদন-ধারা।
বিদ্যে হ’লে কিনব না মা মস্ত জুড়ি গাড়ী,
চলব নাক’ মোটর হেঁকে পথের ধূলো নাড়ি,
রাস্তা দিয়ে যায় ছুটে মা বড় লোকের দল,
উড়িয়ে ধুঁয়ো ছড়িয়ে ধুলো করিয়ে কোলাহল।
আমরা ধূলোয় হই যে ধূসর খেয়াল নাহি তায়,
পথের কাদা ছিটিয়ে চলে মোদের সারা গায়।
চাকার তলায় পিশছে মানুষ, হানছে আঘাত গায়,
ছোটলোকের কান্না ওদের কি-ই বা আসে যায়!
লেখাপড়া শিখব মাগো, কিনব নাক’ গাড়ী,
গড়ব নাক’ মস্ত বড় আকাশ-ছোঁয়া বাড়ি।
সবার সাথে মিশব ব’লে থাকব সবার সনে,
গাছের তলে ঘর বাঁধিয়া মিলব যে ভাই-বোনে।
সবার সুখে হাসব আমি কাঁদব সবার দুখে,
নিজের খাবার বিলিয়ে দেব অনাহারীর মুখে।
আমার বাড়ীর ফুল-বাগিচা, ফুল সকলের হবে,
আমার ঘরে মাটীর প্রদীপ আলোক দিবে সবে।
আমার বাড়ি বাজবে বাঁশী সবার বাড়ী সুর,
আমার বাড়ি সবার বাড়ি রইবে নাক’ দূর।
মৌমাছিদের বাসা,
মাঝখানে তার প্রকাণ্ড এক
চাক রয়েছে খাসা।
তাই না দেখে শিয়াল মশাই
মধু খাওয়ার তরে,
সেই পথে তে সকাল বিকাল
আনাগোনা করে।
রাত্রিবেলা মৌমাছি সব
ঘুমিয়ে আছে জানা,
একদিন তাই রাতে শিয়াল
মৌচাকে দেয় হানা।
যেমনি পড়া, মৌমাছি সব
বেজায় রকম তেড়ে-
উঠলো বলে- রাত দুপুরে
ঘরের ভেতর কে রে ?
চুরি করে মধু খাওয়ার
ফলটা দেখাই তবে।
এইনা ভেবে চোঁর বেচারার
পরল ঘাড়ে সবে।
হূলের জ্বালায় ঝালাপালা,
প্রানটা রাখা ভার।
কাঁতর হয়ে বলে শিয়াল,
ছাড় না রে ভাই ছাড়।
পথ ভুলে ভাই এসেছিলাম
আমড়া গাছের কাছে,
তাই না হলে হেথায় আসে
এমন গাধাও আছে?
হাবুদের ডাল-কুকুরে
সে কি বাস করলে তাড়া,
বলি থাম একটু দাড়া।
পুকুরের ঐ কাছে না
লিচুর এক গাছ আছে না
হোথা না আস্তে গিয়ে
য়্যাব্বড় কাস্তে নিয়ে
গাছে গো যেই চড়েছি
ছোট এক ডাল ধরেছি,
ও বাবা মড়াত করে
পড়েছি সরাত জোরে।
পড়বি পড় মালীর ঘাড়েই,
সে ছিল গাছের আড়েই।
ব্যাটা ভাই বড় নচ্ছার,
ধুমাধুম গোটা দুচ্চার
দিলে খুব কিল ও ঘুষি
একদম জোরসে ঠুসি।
আমিও বাগিয়ে থাপড়
দে হাওয়া চাপিয়ে কাপড়
লাফিয়ে ডিঙনু দেয়াল,
দেখি এক ভিটরে শেয়াল!
সেকি ভাই যায় রে ভুলা-
মালীর ঐ পিটুনিগুলা!
কি বলিস ফের হপ্তা!
তৌবা-নাক খপ্তা!
লেখা আছে অশ্রুজলে
কত বিপ্লবী বন্ধুর রক্তে রাঙা বন্দীশালার ওই শিকল ভাঙা,
তারা কি ফিরিবে আজ সুপ্রভাতে,
যত তরুণ-অরুণ গেছে অস্তাচলে?
যারা স্বর্গগত তারা এখনো জানে স্বর্গের চেয়ে প্রিয় জন্মভূমি,
আজ স্বদেশব্রতে মহাদীক্ষা লভি সেই মৃত্যুঞ্জয়ীদের চরণ চুমি।
যারা জীর্ণ জাতির বুকে জাগাল আশা, মৌন মলিন মুখে জাগালো ভাষা,
আজ রক্তকমলে গাঁথা মাল্যখানি বিজয়লক্ষ্মী দেবে তাদের-ই গলে।।
হয়তো মানুষ নয় — হয়তো বা শঙ্খচিল শালিকের বেশে;
হয়তো ভোরের কাক হয়ে এই কার্তিকের নবান্নের দেশে
কুয়াশার বুকে ভেসে একদিন আসিব এ কাঠাঁল-ছায়ায়;
হয়তো বা হাঁস হবো — কিশোরীর ঘুঙুর রহিবে লাল পায়,
সারাদিন কেটে যাবে কলমির গন্ধভরা জলে ভেসে ভেসে;
আবার আসিব আমি বাংলার নদী মাঠ খেত ভালোবেসে
জলাঙ্গীর ঢেউয়ে ভেজা বাংলার এ সবুজ করুণ ডাঙায়;
হয়তো দেখিবে চেয়ে সুদর্শন উড়িতেছে সন্ধ্যার বাতাসে;
হয়তো শুনিবে এক লক্ষ্মীপেচাঁ ডাকিতেছে শিমুলের ডালে;
হয়তো খইয়ের ধান ছড়াতেছে শিশু এক উঠানের ঘাসে;
রূপসার ঘোলা জলে হয়তো কিশোর এক শাদা ছেঁড়া পালে
ডিঙা বায়; — রাঙা মেঘ সাঁতরায়ে অন্ধকারে আসিতেছে নীড়ে
দেখিবে ধবল বক; আমারেই পাবে তুমি ইহাদের ভিড়ে।
দিল পথিকের পায়
কামড়ের চোটে বিষদাঁত ফুটে
বিষ লেগে গেল তায়।
ঘরে ফিরে এসে রাত্রে বেচারা
বিষম ব্যথায় জাগে,
মেয়েটি তাহার তারি সাথে হায়,
জাগে শিয়রের আগে।
বাপেরে সে বলে ভর্ৎসনা ছলে
কপালে রাখিয়া হাত,
তুমি কেন বাবা, ছেড়ে দিলে তারে
তোমার কি নাই দাঁত ?
কষ্টে হাসিয়া আর্ত কহিল
তুইরে হাসালি মোরে,
দাঁত আছে বলে কুকুরের গায়ে
দংশি কেমন করে ?
কুকুরের কাজ কুকুর করেছে
কামড় দিয়েছে পায়,
তা বলে কুকুরে কামড়ান কি রে
মানুষের শোভা পায়?
লঙ্ঘিতে হবে রাত্রি-নিশীথে, যাত্রীরা হুশিয়ার!
দুলিতেছে তরী, ফুলিতেছে জল, ভুলিতেছে মাঝি পথ,
ছিঁড়িয়াছে পাল, কে ধরিবে হাল, আছে কার হিম্মৎ?
কে আছ জোয়ান হও আগুয়ান হাঁকিছে ভবিষ্যৎ।
এ তুফান ভারী, দিতে হবে পাড়ি, নিতে হবে তরী পার।
তিমির রাত্রি, মাতৃমন্ত্রী সান্ত্রীরা সাবধান!
যুগ-যুগান্ত সঞ্চিত ব্যথা ঘোষিয়াছে অভিযান।
ফেনাইয়া উঠে বঞ্চিত বুকে পুঞ্জিত অভিমান,
ইহাদের পথে নিতে হবে সাথে, দিতে হবে অধিকার।
অসহায় জাতি মরিছে ডুবিয়া, জানে না সন্তরন
কান্ডারী! আজ দেখিব তোমার মাতৃমুক্তি পন।
হিন্দু না ওরা মুসলিম? ওই জিজ্ঞাসে কোন জন?
কান্ডারী! বল, ডুবিছে মানুষ, সন্তান মোর মার
গিরি সংকট, ভীরু যাত্রীরা গুরু গরজায় বাজ,
পশ্চাৎ-পথ-যাত্রীর মনে সন্দেহ জাগে আজ!
কান্ডারী! তুমি ভুলিবে কি পথ? ত্যজিবে কি পথ-মাঝ?
করে হানাহানি, তবু চলো টানি, নিয়াছ যে মহাভার!
কান্ডারী! তব সম্মুখে ঐ পলাশীর প্রান্তর,
বাঙালীর খুনে লাল হল যেথা ক্লাইভের খঞ্জর!
ঐ গঙ্গায় ডুবিয়াছে হায়, ভারতের দিবাকর!
উদিবে সে রবি আমাদেরি খুনে রাঙিয়া পুনর্বার।
ফাঁসির মঞ্চে গেয়ে গেল যারা জীবনের জয়গান,
আসি অলক্ষ্যে দাঁড়ায়েছে তারা, দিবে কোন্ বলিদান
আজি পরীক্ষা, জাতির অথবা জাতের করিবে ত্রাণ?
দুলিতেছে তরী, ফুলিতেছে জল, কান্ডারী হুশিয়ার!
সবার আগে কুসুম-বাগে উঠব আমি ডাকি।
সূয্যিমামা জাগার আগে উঠব আমি জেগে,
‘হয়নি সকাল, ঘুমো এখন’- মা বলবেন রেগে।
বলব আমি, ‘আলসে মেয়ে ঘুমিয়ে তুমি থাক,
হয়নি সকাল- তাই বলে কি সকাল হবে না ক?
আমরা যদি না জাগি মা কেমনে সকাল হবে?
তোমার ছেলে উঠলে গো মা রাত পোহাবে তবে!’
ঊষা দিদির ওঠার আগে উঠব পাহাড়-চূড়ে,
দেখব নিচে ঘুমায় শহর শীতের কাঁথা মুড়ে,
ঘুমায় সাগর বালুচরে নদীর মোহনায়,
বলব আমি ‘ভোর হল যে, সাগর ছুটে আয়!
ঝর্ণা মাসি বলবে হাসি’, ‘খোকন এলি নাকি?’
বলব আমি নই কো খোকন, ঘুম-জাগানো পাখি!’
ফুলের বনে ফুল ফোটাব, অন্ধকারে আলো,
সূয্যিমামা বলবে উঠে, ‘খোকন, ছিলে ভাল?’
বলব ‘মামা, কথা কওয়ার নাই ক সময় আর,
তোমার আলোর রথ চালিয়ে ভাঙ ঘুমের দ্বার।’
রবির আগে চলব আমি ঘুম-ভাঙা গান গেয়ে,
জাগবে সাগর, পাহাড় নদী, ঘুমের ছেলেমেয়ে!
সকাল থেকে পড়েছি যে মেলা।
এখন আমি তোমার ঘরে বসে
করব শুধু পড়া-পড়া খেলা।
তুমি বলছ দুপুর এখন সবে,
নাহয় যেন সত্যি হল তাই,
একদিনও কি দুপুরবেলা হলে
বিকেল হল মনে করতে নাই?
আমি তো বেশ ভাবতে পারি মনে
সুয্যি ডুবে গেছে মাঠের শেষে,
বাগ্দি-বুড়ি চুবড়ি ভরে নিয়ে
শাক তুলেছে পুকুর-ধারে এসে।
আঁধার হল মাদার-গাছের তলা,
কালি হয়ে এল দিঘির জল,
হাটের থেকে সবাই এল ফিরে,
মাঠের থেকে এল চাষির দল।
মনে কর্-না উঠল সাঁঝের তারা,
মনে কর্-না সন্ধে হল যেন।
রাতের বেলা দুপুর যদি হয়
দুপুর বেলা রাত হবে না কেন।
চাংড়িপোতা।
কিসের জন্য?
নেমন্তন্ন।
বিয়ের বুঝি?
না, বাবুজি।
কিসের তবে?
ভজন হবে।
শুধুই ভজন?
প্রসাদ ভোজন।
কেমন প্রসাদ?
যা খেতে সাধ।
কী খেতে চাও?
ছানার পোলাও।
ইচ্ছে কী আর?
সরপুরিয়ার।
আঃ কী আয়েস।
রাবড়ি পায়েস।
এই কেবলি?
ক্ষীর কদলী।
বাঃ কী ফলার!
সবরি কলার।
এবার থামো।
ফজলি আমও।
আমিও যাই?
না, মশাই।
মোদের বাড়ি এসো।
খাট নাই পালং নাই,
চোখ পেতে বোসো।
বাটা ভরা পান দেব,
গাল ভরে খেও।
খোকার চোখে ঘুম নাই,
ঘুম দিয়ে যেও।
মারবো চাবুক, চলবে ঘোড়া
আম পাতা জোড়া জোড়া
মারবো চাবুক, চলবে ঘোড়া
ওরে বিবি, সরে দাঁড়া
আসছে আমার পাগলা ঘোড়া
ওরে বিবি, সরে দাঁড়া
আসছে আমার পাগলা ঘোড়া
পাগলা ঘোড়া ক্ষেপেছে
বন্দুক ছুঁড়ে মেরেছে
Alright, very good
পাউরুটি, বিস্কুট
মেম খায় কুটকুট
সাহেব বলে, “Very good”
আর সাহেব বলে, “Very good”
সাহেব বলে, “Very good”
আম পাতা জোড়া জোড়া
মারবো চাবুক, চলবে ঘোড়া
আম পাতা জোড়া জোড়া
মারবো চাবুক, চলবে ঘোড়া
ওরে বিবি, সরে দাঁড়া
আসছে আমার পাগলা ঘোড়া
ওরে বিবি, সরে দাঁড়া
আসছে আমার পাগলা ঘোড়া
পাগলা ঘোড়া ক্ষেপেছে
বন্দুক ছুঁড়ে মেরেছে
Alright, very good
পাউরুটি, বিস্কুট
মেম খায় কুটকুট
সাহেব বলে, “Very good”
আর সাহেব বলে, “Very good”
সাহেব বলে, “Very good”
তোর্ গড়গড়াটা কই ?
হালের গরু বাঘে খেয়েছে
পিপড়ে টানে মই।
