বীরপুরুষ কবিতাটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-এর একটি জনপ্রিয় ও শিশুতোষ কল্পনাধর্মী রচনা। এই কবিতায় একটি ছোট ছেলের কল্পনার জগৎ খুব সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে। সে নিজের মাকে রক্ষা করার জন্য নিজেকে এক সাহসী বীর হিসেবে কল্পনা করে এবং নানা বিপদের মুখোমুখি হওয়ার গল্প তৈরি করে।
কবিতাটির মাধ্যমে শিশুমনের সাহস, ভালোবাসা এবং কল্পনাশক্তির অসাধারণ প্রকাশ দেখা যায়। এখানে বাস্তবের সাথে কল্পনার মিশ্রণে একটি মধুর ও রোমাঞ্চকর পরিবেশ তৈরি হয়েছে, যা পাঠকের মনে আনন্দ ও আবেগ জাগিয়ে তোলে।
বীরপুরুষ
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
মাকে নিয়ে যাচ্ছি অনেক দূরে ।
তুমি যাচ্ছ পালকিতে মা চড়ে
দরজা দুটো একটুকু ফাঁক করে,
আমি যাচ্ছি রাঙা ঘোড়ার ’পরে
টগবগিয়ে তোমার পাশে পাশে ।
রাস্তা থেকে ঘোড়ার খুরে খুরে
রাঙা ধুলোয় মেঘ উড়িয়ে আসে ।
সন্ধে হল, সূর্য নামে পাটে
এলেম যেন জোড়াদিঘির মাঠে ।
ধূ ধূ করে যে দিক পানে চাই
কোনোখানে জনমানব নাই,
তুমি যেন আপনমনে তাই
ভয় পেয়েছ; ভাবছ, এলেম কোথা?
আমি বলছি, ‘ভয় পেয়ো না মা গো,
ঐ দেখা যায় মরা নদীর সোঁতা ।’
চোরকাঁটাতে মাঠ রয়েছে ঢেকে,
মাঝখানেতে পথ গিয়েছে বেঁকে ।
গোরু বাছুর নেইকো কোনোখানে,
সন্ধে হতেই গেছে গাঁয়ের পানে,
আমরা কোথায় যাচ্ছি কে তা জানে,
অন্ধকারে দেখা যায় না ভালো ।
তুমি যেন বললে আমায় ডেকে,
‘দিঘির ধারে ঐ যে কিসের আলো!’
এমন সময় ‘হাঁরে রে রে রে রে’
ঐ যে কারা আসতেছে ডাক ছেড়ে ।
তুমি ভয়ে পালকিতে এক কোণে
ঠাকুর দেবতা স্মরণ করছ মনে,
বেয়ারাগুলো পাশের কাঁটাবনে
পালকি ছেড়ে কাঁপছে থরোথরো।
আমি যেন তোমায় বলছি ডেকে,
‘আমি আছি, ভয় কেন মা কর।’
হাতে লাঠি, মাথায় ঝাকড়া চুল
কানে তাদের গোঁজা জবার ফুল ।
আমি বলি, ‘দাঁড়া, খবরদার!
এক পা আগে আসিস যদি আর –
এই চেয়ে দেখ আমার তলোয়ার,
টুকরো করে দেব তোদের সেরে ।’
শুনে তারা লম্ফ দিয়ে উঠে
চেঁচিয়ে উঠল, ‘হাঁরে রে রে রে রে।’
তুমি বললে, ‘যাস না খোকা ওরে’
আমি বলি, ‘দেখো না চুপ করে।’
ছুটিয়ে ঘোড়া গেলেম তাদের মাঝে,
ঢাল তলোয়ার ঝন্ঝনিয়ে বাজে
কী ভয়ানক লড়াই হল মা যে,
শুনে তোমার গায়ে দেবে কাঁটা।
কত লোক যে পালিয়ে গেল ভয়ে,
কত লোকের মাথা পড়ল কাটা।
এত লোকের সঙ্গে লড়াই করে
ভাবছ খোকা গেলই বুঝি মরে।
আমি তখন রক্ত মেখে ঘেমে
বলছি এসে, ‘লড়াই গেছে থেমে’,
তুমি শুনে পালকি থেকে নেমে
চুমো খেয়ে নিচ্ছ আমায় কোলে –
বলছ, ‘ভাগ্যে খোকা সঙ্গে ছিল!
কী দুর্দশাই হত তা না হলে।’
রোজ কত কী ঘটে যাহা তাহা –
এমন কেন সত্যি হয় না আহা।
ঠিক যেন এক গল্প হত তবে,
শুনত যারা অবাক হত সবে,
দাদা বলত, ‘কেমন করে হবে,
খোকার গায়ে এত কি জোড় আছে।’
পাড়ার লোকে বলত সবাই শুনে,
‘ভাগ্যে খোকা ছিল মায়ের কাছে।’
You May Also Love To Read
- Anchoring Script for Freshers Party to Welcoming Freshers
- রোমান্টিক প্রেমের কবিতা(Premer Kabita Bangla): হৃদয়ের গভীর ভালোবাসার প্রকাশ
- कृष्ण जी की आरती: क्यों ‘आरती कुंज बिहारी की’ आज भी इतनी शक्तिशाली लगती है?
- Express Gratitude to Your Gurus Teachers Day Poem in Hindi
- Shiv Chaturdashi 2025: भगवान शिव की पवित्र रात्रि की संपूर्ण गाइड – रीति-रिवाज, लाभ और समय जानें!
